লালমনিরহাট সংবাদদাতা।। “আদিতমারী হাসপাতালের ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন গত ১৯ ডিসেম্বর “আমাদের বাংলাদেশ.কম” এ ছবিসহ প্রকাশ হলে টনক নড়ে ওই ক্যাশিয়ারের। সেই সাথে ছবিসহ সংবাদ প্রকাশের লিংকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য মন্তব্য আসতে থাকে।
শেষে নিজেকে রক্ষার জন্য একটি অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানান ক্যাশিয়ার আনোয়ারুল আজম আপেল। তিনি সত্য ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা চালান। তিনি দাবী করেন তাকে নাকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কোন কৈফিয়ত তলব করা হয়নি। সরকারী টাকা উত্তোলন করার পর নিজ পকেটে রাখা ও ক্যাশ বই আপডেট না থাকার কারণে ওই কর্মকর্তা ৪ বার কৈফিয়ত তলব করেছেন। তাকে কৈফিয়ত তলবের কপি এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে আদিতমারী হাসপাতালের ক্যাশিয়ার আনোয়ারুল আজমের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনি সব সময় ফেন্সিডিল সেবনের পর অফিস কক্ষেই ঘুমিয়ে পড়েন। যার একটি ছবি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় তার অফিসের একাধিক লোকদের নিয়ে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করে বলে এলাকাবাসী দাবী করেন। এছাড়াও তার কারণে হাসপাতাল চত্বর মাদক সেবিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ থানায়ও রয়েছে। এমনকি মাদক সেবনের বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ উদ্ধতন কতৃপক্ষও বিষয়টি অবগত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের কর্মচারীকে লাঞ্চিত করারও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে একাধিকবার লাঞ্চিত করারও চেষ্টাও করেন ক্যাশিয়ার আনোয়ারুল আজম। তার নাকি খুঁটির জোর অনেক বেশী।
উল্লেখ্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলোঃ জুলাই -১৯ হতে অক্টোবর-১৯ পর্যন্ত এ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহণ ভাড়া, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ফি, জরিরী ভর্তি ফি, বিহঃবিভাগ টিকিট ফি বাবদ আদায়কৃত টাকা জমা না করা, নভেম্বর-১৮ হতে ক্যাশ বুক হালনাগাদ না করা, ট্রেজারি হতে বিল পাশ ও ক্যাশ উত্তোলনে অবহেলা ও সময়মত পরিশোধ না করা, বখাটে ও অবাঞ্চিত লোকজনের সাথে চলাফেরা করা ও অফিসের তথ্য ফাঁস ও গোপনীয়তা রক্ষা না করা। এসব বিষয়ে একাধিকবার কৈফিয়ত তলব করা হলেও টনক নড়েনি ক্যাশয়ারের। সর্বশেষ গত ৪ ডিসেম্বর ১০১৭/৩ স্মারক নম্বরে আরো একটি চিঠি প্রেরন করা হয় তার নামে। সেখানে বলা হয়েছে একমাস পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালের ইউজার ফি বাবাদ টাকা জমা না করা ও উত্তোলনকৃত বিদ্যুৎ বিলের টাকা পরিশোধ করেন নাই। কেন আপনার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ও আপীল বিধি মোতাবেক শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তাহা পত্র প্রাপ্তির ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য পুনরায় নির্দেশ প্রদান করা হইল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের ক্যাশিয়ার (নিজ বেতনে) আনোয়ারুল আজম মাত্র ২টি চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাকে কৈফিয়ত তলব করা হলেও আমাকে চিঠি দেয়া হয়না। আমাকে বিপাকে ফেলানোর জন্য এসব করা হচ্ছে। তিনি আরো বকেন, সম্প্রতি এসব টাকা জমা দেয়া হয়েছে। যার জবাবও পরিচালক (স্বাস্থ্য),রংপুর বিভাগ মহোদয়কে দেয়া হয়েছে।
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মেশকাতুল আবেদ মোবাইল ফোনে বলেন,তাকে পর পর ৪ বার কৈফয়ত তলব করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, তার বিষয়ে উদ্ধতন কতৃপক্ষকেও অবগত করা হয়েছে।